সিলেট-চারখাই-বিয়ানীবাজার সড়কের দুই ধারে অতিরিক্ত ঝোপঝাড় ও আগাছা ছড়িয়ে পড়ায় দৃষ্টিসীমা কমে গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত চলাচলকারী চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-চারখাই-বিয়ানীবাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে গাছপালা, লতাপাতা ও ঝোপঝাড় সড়কের কিনারা ছাড়িয়ে মূল সড়কের খুব কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের হাঁটার জন্য আলাদা কোনো জায়গাই নেই। ফলে তাদের মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচলের সময় পথচারীদের নিরাপদে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না।
সড়কটির বিভিন্ন স্থানে রয়েছে একাধিক বাঁক। কিন্তু ঝোপঝাড়ের কারণে বাঁকের বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন আগে থেকে দেখা যায় না। এতে যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা।
সম্প্রতি শেওলা সেতুর কাছে ঝোপঝাড়ের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বিয়ানীবাজারের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. আবু ইসহাক আজাদ। এর কিছুদিন আগে একই সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুণ নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের দুই পাশের ঘন ঝোপঝাড় দুর্বৃত্তদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অন্ধকারে তারা সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারে। ফলে যাত্রীরা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের আতঙ্কে চলাচল করছেন। তাদের মতে, সদাখাল সেতু থেকে দুবাগ সেতু পর্যন্ত অংশে ঝোপঝাড় সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত।
এ সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী চালকরা জানান, টার্নিং পয়েন্টগুলোতে ঝোপঝাড়ের কারণে এক পাশ থেকে অন্য পাশ দেখা যায় না। এতে বিপরীতমুখী যানবাহন ক্রসিং করতে গিয়ে প্রায়ই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শেওলা ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান এরশাদ বলেন, “যেখানে ঝোপঝাড় বাড়ে, সেখানেই অপরাধ লুকিয়ে থাকার পথ খুঁজে পায়। রাস্তার পাশের যত্রতত্র ঝোপঝাড় শুধু সৌন্দর্যহানিই ঘটাচ্ছে না, বরং অপরাধীদের আড়াল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। যেখানে আলো পৌঁছায় না, সেখানে নিরাপত্তাও হারিয়ে যায়।”
অটোরিকশাচালক সুজন ইসলাম বলেন, “সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় থাকায় আমাদের যানবাহন চালাতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। দিনের বেলায়ও ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ গরু-ছাগল সামনে চলে আসে। তখন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
https://youtu.be/6PQKPQe5QHQ
প্রকাশক: আতিকুর রহমান মোহন ।। সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম সাজু
কার্যালয়: আলহাজ্ব জলিল ভিলা, মাথিউরা আরেঙ্গাবাদ, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
দ্যা লোকাল টাইমস © ২০২৪ দ্বারা সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত৷