মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ফাযিল মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মাত্র ৬জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৪০ জন শিক্ষার্থী। অথচ শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় একটি জিপিএ-৫সহ ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছিলেন। এবারের ফলাফলে উপজেলার মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনস্থ ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শোচনীয় বিপর্যয় ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাথিউরা ফাযিল মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৬জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কোন শিক্ষার্থী নেই। কৃতকার্যদের মধ্যে দুজন পুরাতন আর একজন অন্য আরেকটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এবার প্রতিষ্ঠানটিতে পাশের হার এসেছে ১৫ শতাংশ। অথচ এবারের ফলাফলে উপজেলার মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনস্থ ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২ শতাংশের নিচে কোন প্রতিষ্ঠানেরই পাশের হার নেই।
এদিকে, এবারের পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শোচনীয় বিপর্যয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস্যাপে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আব্দুল হালিম জুনেদ নামে মাদ্রাসার একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী লিখেছেন,
'একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করুণ পতন! মাথিউরা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা — ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার সেরা প্রতিষ্ঠান! কিন্তু ২০২৫ সালে সেই প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন পাস করেছে! এটা শুধুই ফলাফল নয় — এটি একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সংকেত! কার অদক্ষতা, কার মূর্খতা, কার দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণে এই ভয়াবহ অবনতি? যারা দায়িত্বে থেকেও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষা করতে ব্যর্থ, তারা কি দায় এড়াতে পারেন? একটির পর একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত, অরাজকতা ও খেয়ালখুশির শাসন — এসবের জন্য জবাবদিহি হতেই হবে! প্রয়োজনে তদন্ত হোক, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক! একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের এই দুর্দশা আমরা মেনে নিতে পারি না!'
শেখ আনোয়ার নামে মাদ্রাসার একজন প্রাক্তন শিক্ষক লিখেছেন,
'মাথিউরা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার বিগত ২০২৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় উপজেলায় সেরা প্রতিষ্ঠান ছিল !!! কিন্তু এবার ২০২৫ দাখিল পরীক্ষায় ৪০ জন অংশগ্রহণ করে পাশ করে মাত্র ৬ জন !!! ঐতিহ্যবাহী এই সুনামধন্য প্রতিষ্টানকে যাদের পরিচালনায়, যাদের অদক্ষতায় , যাদের মূর্খতায় এমন মারাত্মক অবনতির দিকে নিয়ে গেল !!!!! তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত!!! নিজেদের খেয়ালখুশিমত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর দায়ভার তাদের গ্রহণ করা উচিত!!!'
বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিয়ানীবাজার থেকে অংশগ্রহণ করে ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৬১৪জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৫৫৯ জন। পাশের হার ৭৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। গত বছরের চেয়ে এবার বেড়েছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। জিপিএ ৫ পেয়েছে মোট ৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ এসেছে খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতেন থেকে। তারা ২৪ টি জিপিএ ৫ অর্জন করে।
এদিকে, দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৯০ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ ৩৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন। পাশের হার ৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় কম।
একমাত্র ভোকেশনাল কেন্দ্র হিসেবে বৈরাগীবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ জন শিক্ষার্থী, পাশের হার ৭৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।
প্রকাশক: আতিকুর রহমান মোহন ।। সম্পাদক: শহিদুল ইসলাম সাজু
কার্যালয়: আলহাজ্ব জলিল ভিলা, মাথিউরা আরেঙ্গাবাদ, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
দ্যা লোকাল টাইমস © ২০২৪ দ্বারা সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত৷