সিলেটে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম তিনগুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। অথচ সপ্তাহ খানেক আগেও বাজারে ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে সিলেটের খুচরা বাজারে। শুধু মরিচ নয়, বাজারে ডিম-মুরগিসহ অন্যান্য সবজিরও দাম বেড়েছে। কোনো সবজিই ৮০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে না। সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, সুবিদবাজার, কাজিরবাজার, মদীনা মার্কেট এবং পাড়া-মহল্লার সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেটের বাজারে আমদানি করা ও দেশীয়-উভয় ধরনের কাঁচা মরিচের সরবরাহে ঘাটতি নেই। গরম, বন্যা বা অতিবৃষ্টির কারণে গত তিন-চার মাসে বাজারে বেশ কয়েকবার কাঁচা মরিচের দাম ওঠানামা করেছে। তবে বেশির ভাগ সময় ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে মরিচ বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহেও ১৮০-২০০ টাকা দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। এরপর ক্রমাগত দাম বাড়তে বাড়তে ৬শ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজি ৮০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক সপ্তাহ আগে বরবটি কেনা যেত ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে। বাজার ভেদে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকায়। বেগুনের দাম কেজি প্রতি ১৬০-১৮০ টাকা হয়েছে। টমেটো, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, করলা, ঢ্যাঁড়স, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজির গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে। বাজারে এক ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৭৫ টাকা দরে। পাড়া-মহল্লায় এই দাম ১৮০ টাকা অর্থাৎ হালি ৬০ টাকা বা তারও বেশি। সেই হিসাবে প্রতি পিছ ডিমের দাম হয় ১৫ টাকা। ফার্মের মুরগির সাদা ডিমের দামও একই রকম।
বাজারে বয়লার মুরগির দামও দ্বিশতক ছুঁয়েছে। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮৫ থেকে ২১০ টাকা দরে। সাত দিন আগেও এ দাম ১০-২০ টাকা কম ছিল। সোনালি মুরগি কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৭০০ টাকা দরে।
শিবগঞ্জ বাজারের ক্রেতা এনামুল হক বলেন, বাজারে সবজির দাম বেশি। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কাঁচা মরিচের ঝালে বাজারে ঢোকা যায় না।
চৌকিদেখী বাজারের ক্রেতা আবু তাহের চৌধুরী বলেন, সকালে বাজার করতে গিয়ে অল্পের জন্য জ্ঞান হারায়নি। বাজারে প্রচুর মরিচ থাকলেও প্রতি ১০০ গ্রাম ৬০ টাকা করে কিনতে হয়েছে। বাজারের অন্যান্য তরিতরকারি যে দাম, মধ্যবিত্তরা হা হুতাশ করছেন।
আম্বরখানা বাজারের বিক্রেতা কালাম মিয়া বলেন, বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বেশি দামে বিক্রি করি। অনেক সময় দাম বলতে লজ্জাও লাগে। লস করে তো আর ব্যবসা করা যাবে না।