1. [email protected] : shahidul :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিয়ানীবাজারে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আ’টক ১, পলাতক ২ গোলাপগঞ্জে পরিত্যক্ত কাভার্ড ভ্যানে মিলল সোয়া ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য, চালক পলাতক বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে বিয়ানীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রচার মিছিল-সমাবেশ মাথিউরা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফ্রান্সের নতুন কমিটি: সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক লিটন, অর্থ সম্পাদক সুহেল বিয়ানীবাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৩৫ পিস ইয়াবাসহ আ’টক ১ নীরব পরিবেশযোদ্ধা নাসিরের উদ্যোগে মুগ্ধ পরিবেশমন্ত্রী, স্বীকৃতি দিল ‘পরিবেশ অধিদপ্তর’ জামায়াতে যোগ দিলেন সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন কাল জকিগঞ্জে যাচ্ছেন সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি শাম্মী আক্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান গ্রেপ্তার জুড়ীর ইউএনও মুশফিকীন নূরকে প্র’ত্যাহার

ডেঙ্গুর প্রকোপ—সিলেট বিভাগে চলতি বছরে ৭১ মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। শুধু চলতি মাসের এখন (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭১ জন মারা গেছেন। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। অক্টোবরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ১১২ জন, যা গত মাসে ছিল ১৮ হাজার ৯৭ জন। শুধু রাজধানী নয়, রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে এই সংখ্যা। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী ঢাকার বাইরের, আর মৃত্যুর সংখ্যা বেশিরভাগই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার।  

প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১০০ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৮ জন। পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবরের ১৭ দিনে এখন পর্যন্ত যত রোগী ভর্তি হয়েছেন, তা আগামী কয়েক দিনে সেপ্টেম্বরকে ছাড়িয়ে যাবে। কারণ প্রতিদিনই গড়ে হাজারখানেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৩৪ জন।

প্রতিদিন রোগী বেড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে হাসপাতালগুলোতেও। ঢাকার ৭টি সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী অবস্থান করছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ১৪৪ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৫৯ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩১ জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৯৫ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৮১ জন এবং কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ৫০ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ১৪৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। সব মিলিয়ে ঢাকার ১৮টি সরকারি হাসপাতালে ৯৯১ জন রোগী ভর্তি আছেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ৮০৬ জন রোগী।

ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীদের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, যার সংখ্যা ৪৫ জন। এছাড়া মিটফোর্ড হাসপাতালে ১৮, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ৭ জন মারা গেছেন। সব মিলিয়ে ১৮টি সরকারি হাসপাতালে ১১৭ জন মারা গেছেন এ বছর। আর ৫৯টি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৬ জন।

ঢাকার বাইরে চলতি বছরে ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, খুলনা বিভাগে ১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ জন, বরিশাল বিভাগে ২৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ৭১ জন মারা গেছেন।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে শক সিনড্রোম ও ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট জটিলতাকে দায়ী করা হলেও দেরিতে হাসপাতালে আসা, চিকিৎসা পেতে বিলম্ব, দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ এবং একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্তও দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদারের মতে, সাধারণত জ্বর থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু রোগী মারা যায় না, বা জটিলতা শুরু হয় না। বরং বিপদ শুরু হয় চারদিন পর জ্বর কমার পরে। আগে সাধারণত ৫-৬ দিনের সময় ক্রিটিক্যাল ফেজ শুরু হতো, কিন্তু এখন ৩ দিনের শুরুতেই অনেক রোগী শকে চলে যাচ্ছে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ২ দিন পরেও হতে পারে। আবার অল্প জ্বরেও অনেকের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই জ্বর কমে গেলেই আরও সতর্ক হতে হবে, কারণ এসময় রক্তে প্লাটিলেটও দ্রুত কমতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘যারা দ্বিতীয় বা তার বেশি বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, সাধারণত তারাই ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে বা হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাদের আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। তবে প্রথমবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভারে রোগী সাধারণত ৫-৭ দিনে ভালো হয়ে যায়। তাই সতর্ক সংকেতগুলো সবার জানতে হবে এবং এক বা একাধিকবার দেখা দিলেই রোগীকে অতিদ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে হলে চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা শহরকেন্দ্রিক। যাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দরকার তারাও পরীক্ষা করতে শহরের বড় মেডিক্যাল কলেজে আসছে, যাদের পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার তারাও আসছে, গুরুতর রোগী তো আসবেই। কাজেই মাধ্যমিক হাসপাতাল বা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলে বড় হাসপাতালে চাপ কমে যায়। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে যারা আসছেন, তাদের চিকিৎসা আরও ভালোভাবে করা যায়।’    

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সত্যজিৎ সাহা বলেন, ‘যারা একবার আক্রান্ত হয়েছে, তারা যখন দ্বিতীয়বার কিংবা তৃতীয়বার আক্রান্ত হয়, তারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপ। দ্বিতীয়বার যারা আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়। কারণ শরীরের মধ্যে তখন রক্টি ইমিউনো রিঅ্যাকশন তৈরি হয়, যার ফলে শরীরে জটিলতা বেড়ে যায়।’

এই বিভাগে আরও সংবাদ পড়ুন
দ্যা লোকাল টাইমস © ২০২৪ দ্বারা সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত৷