1. [email protected] : shahidul :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিয়ানীবাজারে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আ’টক ১, পলাতক ২ গোলাপগঞ্জে পরিত্যক্ত কাভার্ড ভ্যানে মিলল সোয়া ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য, চালক পলাতক বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে বিয়ানীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রচার মিছিল-সমাবেশ মাথিউরা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফ্রান্সের নতুন কমিটি: সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক লিটন, অর্থ সম্পাদক সুহেল বিয়ানীবাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৩৫ পিস ইয়াবাসহ আ’টক ১ নীরব পরিবেশযোদ্ধা নাসিরের উদ্যোগে মুগ্ধ পরিবেশমন্ত্রী, স্বীকৃতি দিল ‘পরিবেশ অধিদপ্তর’ জামায়াতে যোগ দিলেন সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন কাল জকিগঞ্জে যাচ্ছেন সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি শাম্মী আক্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান গ্রেপ্তার জুড়ীর ইউএনও মুশফিকীন নূরকে প্র’ত্যাহার

এমরান চৌধুরী যেন নির্বাচনের আগেই এমপি!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৪৯ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েই সিলেটের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। ইতোমধ্যে সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে তিনি সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই আসনটিতে। যেখানেই যাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ তাকে ঘিরে ঝটলা তৈরি করছেন। আর তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বিএনপির এই নেতা। নেতাকর্মীরা এমরান আহমদ চৌধুরীকে দেখা মাত্রই তাকে ধানের শীষের মুহুর্মুহু শ্লোগানে ভাসাচ্ছেন। সাধারণ মানুষও সেই শ্লোগানে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই যেন ওই উৎসব ছড়িয়ে পড়ছে চতুর্দিকে। মানুষের ভালোবাসায় আচ্ছন্ন এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী যেন নির্বাচনের আগেই হয়ে উঠেছেন সংসদ সদস্য।

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত জনপদ হিসাবে পরিচিত বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ নির্বাচনী সংসদীয় আসন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

এমরান আহমদ চৌধুরী যখন কিশোর তখন গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এসেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। কৈশরকালে বাবার হাত ধরে সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন এমরান চৌধুরী। জিয়াউর রহমানকে দেখে এবং তার আবেগঘন বক্তব্য শুনে এমরান চৌধুরীর মনে দাগ কাটে। সেই থেকে জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করতে থাকেন এমরান চৌধুরী। স্কুল-কলেজ জীবনের পুরোটা সময় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। বিভিন্ন পদে পদবীধারী হয়ে নিজের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি ও সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিপুল ভোটে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে এমরান চৌধুরীকে মোকাবেলা করতে হয়েছে নানা চড়াই-উৎড়াই।। একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডজন ডজন মামলার আসামি হয়েছেন। একাধিক মামলায় ফেরারি আসামি হয়ে মাসের পর মাস বনে জঙ্গলে বাস করতে হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা এমরান চৌধুরী ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী বাহিনীর গুলির মুখে পড়েছিলেন। সেসময় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হতে হয়েছিল তাকে। আহত অবস্থায়ও তিনি লড়াই করেছেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবেশ স্বাভাবিক করে ঘরে ফিরেছিলেন এমরান চৌধুরী।

দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব প্রদানকালে গুলিবিদ্ধ এমরান আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন সিলেটসহ বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার মানুষ। এই দুই উপজেলার মানুষ তাদের সকল আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে এমরান চৌধুরীর জন্যে মাঠে নামেন। এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার জন্যে এমরান চৌধুরীকে নিয়ে তাঁরা দুই উপজেলায় চষে বেড়াতে সহুরু করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার প্রচারসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে এমরান চৌধুরীও সাধারণ মানুষের সাথে হাত মিলিয়ে সর্বত্র চষে বেড়াতে থাকেন।

যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই সাধারণ মানুষ তাদের চাওয়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। দুইটি উপজেলার রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা থেকে তা সমাধানে তাৎক্ষণিক নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছেন। বাদ যায়নি এই অঞ্চলের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গনও। এমরান চৌধুরী নদী ভাঙ্গন এলাকাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার গল্প শুনে মর্মাহত হয়েছেন। সেসময়টাতে তিনি জোরালো কন্ঠে এলাকার মানুষকে কথা দিয়েছেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে ওই সমস্যার সমাধান করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানের সড়কে অবস্থিত ‘দেওয়ানের পুল’ নামক সেতুটি অর্ধেক ভাঙার ফলে ৩ বছর ধরেই দুর্ভোগে রয়েছেন দু’পারের কয়েক হাজার মানুষ। গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা উপজেলার মানুষজন এই লিংক রোড দিয়ে সহজেই বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ভাঙার কারণে ৩ বছর ধরে ‘দেওয়ানের পুল’ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এই হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এবার উদ্যোগ নিয়েছেন এমরান আহমদ চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি সেতুটি পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় মানুষ তাকে দেখে ঝটলার সৃষ্টি করেন। এসময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এমরান চৌধুরী বলেন, ”বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মুঘল আমলের সেতুটির যে স্ট্রং স্ট্রাকচার রয়েছে সেটি জায়গামতো রেখেই রাস্তা বড় করা যেতো। ভাঙা তো হলোই, তদুপরি ৩ বছরেও সেটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলো না ফলে দীর্ঘদিন ধরে দু’পারের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এবার আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অস্থায়ীভাবে সেটি সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য। এ লক্ষ্যে আমি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিডিই’র নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই ‘দেওয়ানের পুল’ যান চলাচলের উপযোগী হয়ে যাবে।”

জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একযোগে দেশের ২৩৭টি আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেই প্রার্থী তালিকায় সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন এমরান চৌধুরী। যেদিনই ওই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেদিন দুইটি উপজেলায় বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ও আনন্দ দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। এমরান চৌধুরীও দল এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। এ কারণে বোধহয় সাধারণ মানুষের মুখ থেকে শোনা যায়- ‘ওইত আমাদের এমপি সাহেব আসছেন’।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীন জানান, “এমরান চৌধুরীকে আমরা এমপি হিসেবেই মনে করি। তিনি যখন বক্তৃতায় উঠে বলেন- ‘আমার মা-বাবা নেই। ভাই-বোন নেই। (জনতার উদ্দেশ্যে) আপনারাই আমার মা-বাবা, ভাই-বোন। আপনাদের সেবা করে জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’ এমরান চৌধুরীর-এমন বক্তব্যের পর চোখে পানি আটকানো যায় না। তিনিই আমাদের নেতা।’’

শাহজাহান আহমদ নামের এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, ‘’আমাদের সিলেট-৬ আসনে অনেকেই ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র মাঠের ত্যাগী নেতা হিসাবে এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকেই মনোনীত করেছে। আর এতে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি জনগনের দল, জনগনের কাঙ্খিত ব্যক্তিকেই জনপ্রতিনিধি হিসাবে বাছাই করে দিয়েছে। এমরান ভাই আমাদের মানুষ, আপন মানুষ। উন্নয়নবঞ্চিত বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জবাসীর জন্য এমন নেতাই এমপি হওয়ার যোগ্য।’’

এই জনপদের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং সবাই মিলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে সিলেট-৬ আসনটিকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে উপহার দেওয়া ইচ্ছা পোষণ করে এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এক সুস্পষ্ট রূপরেখা। নতুন বাংলাদেশ ও পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের বীজ তাতে নিহিত রয়েছে। আমি এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আমার সততা, নিষ্ঠা ও নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আজীবন বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জবাসীর সেবক হয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি বিগত ২৫ বছর বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছি। আরও যাবো, অবহেলিত জনপদগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করবো।’

এই বিভাগে আরও সংবাদ পড়ুন
দ্যা লোকাল টাইমস © ২০২৪ দ্বারা সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত৷