1. [email protected] : shahidul :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
‘আমরা বিয়ানীবাজারী ফুরিন’ ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে ৩১ জুলাই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বিয়ানীবাজারে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আ’টক ১, পলাতক ২ গোলাপগঞ্জে পরিত্যক্ত কাভার্ড ভ্যানে মিলল সোয়া ৩ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য, চালক পলাতক বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে বিয়ানীবাজারে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রচার মিছিল-সমাবেশ মাথিউরা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ফ্রান্সের নতুন কমিটি: সভাপতি দেলোয়ার, সম্পাদক লিটন, অর্থ সম্পাদক সুহেল বিয়ানীবাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৩৫ পিস ইয়াবাসহ আ’টক ১ নীরব পরিবেশযোদ্ধা নাসিরের উদ্যোগে মুগ্ধ পরিবেশমন্ত্রী, স্বীকৃতি দিল ‘পরিবেশ অধিদপ্তর’ জামায়াতে যোগ দিলেন সিলেট জেলা ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন কাল জকিগঞ্জে যাচ্ছেন সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি শাম্মী আক্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিয়ানীবাজার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ান গ্রেপ্তার

নেই প্রশাসনের অনুমতি, সেই আ.লীগ নেতা ফের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ারে!

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

আবারো প্রশাসনের কোন নিদের্শনা বা অনুমতির তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন বিতর্কীত আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন। রোববার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় নিজ বলয়ের ৫ ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে নিয়ে তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয় খোলে চেয়ারম্যানের চেয়ারে অনৈতিকভাবে বসে কার্যক্রম চালান।

২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পূর্বে উপজেলা সদরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রথম সারির এ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আলতাফ হোসেন নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে এবং উচ্চ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কমর্কতাসহ ৮ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বিবাদী করে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টে রীট আবেদন করেন। ১৩ জুলাই আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নির্দেশনা জারি করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

গত ২১ মে মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করে চেয়ারম্যানের চেয়ার দখল করেন আলতাফ হোসেন। এ নিয়ে ইউনিয়নবাসী প্রতিবাদী হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি ২৩ মে তদন্ত শুরু করে এবং ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করেন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন। জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ৮ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। আদালত বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশসহ প্রয়োজনীয় ববস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কোন নির্দেশনা না নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন।

মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন পালন করছেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিষদের সচিব মো. তাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে আলতাফ হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে কোন অফিস আদেশ পাইনি। ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন হাইকোর্টে রীটের কাগজপত্র দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’

ইউপি সদস্যরা জানান, গত ২১ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোন অনুমতির তোয়াক্কা না করে নিজ বলয়ের লোকদের নিয়ে তালা ভেঙ্গে ঘোষণা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ ইউনিয়ন জুড়ে ক্ষোভ দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দিয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ২৮ মে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রদান করলে সিলেটের জেলা প্রশাসক উপজেলা ৪ জুন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেন।

ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ফয়জুল ইসলাম নজমুল বলেন, পরিষদের ৬জন সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আলতাফ হোসেন মেম্বারের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিভ্রান্তমুলক পরিবেশ তৈরী, প্রভাব খাটানোসহ নানা অভিযোগ উল্লেখ করে গত সপ্তাহে ইউপি সদস্যরা সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর আরো দুইটি অভিযোগ প্রদান করেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি না নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আলতাফ হোসেন মেম্বার আইন ভঙ্গ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ছোট ভাই বিএনপি’র নেতা হওয়ায় তার প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ার বার বার দখল করা অপচেষ্টা করছেন আলতাফ মেম্বার।

ইউপি সদস্য সৈয়দ আহমদ বলেন, ‘কোন ধরনের অফিস আদেশ ছাড়াই আলতাফ হোসেন চেয়ারম্যানের কক্ষের দরজা খুলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আলতাফ হোসেনের বলপ্রয়োগ ও অবৈধ দায়িত্ব পালনের সত্যতা পেলেও তার বিরুদ্ধে আইনী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। সেকারণে আলতাফ হোসেন নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে হাইকোর্টের রীট করে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছে।’

সমাজকর্মী সাদিকুর রহমান ও ফরহাদ মোহাম্মদ বলেন, ‘বহিষ্কার হওয়ায় চেয়ারম্যান মো. আমান উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন- দুজনেই আওয়ামী লীগের পদবীধারী। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ফ্যাসিস্টদের চাই না। অবিলম্বে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আমান উদ্দিনের মতো আলতাফ হোসেনেরও অপসারণ দাবি করছি।’ তদন্ত কমিটিসহ সিলেটের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যর্থতাকেই দায়ি করে তারা বলেন, ‘তারা ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছেন।’

নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করা সেই আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, ‘মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসাবে চেয়ারম্যানের অবর্তমানে আমার দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। বিভিন্ন তাল-বাহানায় সেটি না হওয়ায় আমি হাইকোর্টে রীট করে দায়িত্ব পালনের অনুমতি পেয়েছি।’

কোন অফিস আদেশ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রীটের অনুমতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি আদালত রায় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কোন অফিস আদেশ পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট আসেনি।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মুস্তাফা মুন্নার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসকের আদেশে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আলতাফ হোসেন নামে একজন ইউপি সদস্য হাইকোর্টে রীট করেছেন- এমন একটি রীটের কাগজপত্র ডাকযোগে পেয়েছি। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি দায়িত্ব নেবেন কি নেবেন না- সে ব্যাপারে কোন অফিস অর্ডার আমি পাইনি।’

অফিস আদেশ ছাড়া দায়িত্ব পালন করার আইনগত বৈধতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি হাইকোর্ট দেখবেন। আমি কোন মন্তব্য করতে পারছি না।’

এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

এই বিভাগে আরও সংবাদ পড়ুন
দ্যা লোকাল টাইমস © ২০২৪ দ্বারা সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত৷