
উরু ও দুই পায়ে বিশেষ কৌশলে টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। বাইরে থেকে যাতে কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য পরেছিলেন লুঙ্গি। এরপর জকিগঞ্জ থেকে একটি পাবলিক বাসে সাধারণ যাত্রীর বেশে সিলেট শহরের উদ্দেশে রওনা দেন মাখন মিয়া (৪৫)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের নজর এড়াতে পারেননি তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জকিগঞ্জ-জিরো পয়েন্ট সড়কের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের মইয়াখালী ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জকিগঞ্জ থেকে সিলেটগামী একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন যাত্রী মাখন মিয়ার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তল্লাশিতে তার উরু ও পায়ে টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যার আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত মাখন মিয়া জকিগঞ্জ উপজেলার পীরেরচর গ্রামের মৃত ইলিয়াছ আলীর ছেলে। সে একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও সে বিভিন্ন বেশ ধারণ করে সীমান্ত এলাকা থেকে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও সিলেট শহরে ইয়াবা পাচারের কাজ করতো। সে মাদক আইনে জকিগঞ্জ থানায় একটি ও গোলাপগঞ্জ থানায় দুটি মামলার অভিযুক্ত আসামি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাদক কারবারিরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। শরীরের সঙ্গে টেপ দিয়ে ইয়াবা বেঁধে পরিবহন করাও সেই কৌশলেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া একজন ব্যক্তি একাই ৯ হাজার পিস ইয়াবা বহন করছিলেন—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ ও বিশাল মাদকচক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত মাখন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্ভাব্য গ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তার মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ্য করে ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে মাদক ব্যবসায়ীরা পাবলিক পরিবহনকে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। কারণ যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন পাবলিক স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ে সহজে শনাক্ত হওয়া কঠিন। আর তারা সেই সুযোগটাকে কাজে লাগায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বেশ তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মাদক চক্রের আরও সদস্যের নাম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমি তাদের সেই গোপন নেটওয়ার্কের সন্ধানে কাজ করছি।