
বিয়ানীবাজারের মাথিউরা ইউনিয়নের একাধিক সরকারি খাল দখল করার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্যসহ ২৬ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে সরকারি খালগুলো দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করেছেন। তাদেরকে আগামীকাল বুধবার (১৩ আগস্ট) অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে এই দখলের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবাসী, ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। তারা হচ্ছেন- মাথিউরা ইউনিয়নের নালবহর গ্রামের মুহিব আলীর ছেলে বাবুল উদ্দিন, আলী আহমদ ও জামিল আহমদ, কমর উদ্দিনের ছেলে নুরুল আলম ও ইকবাল হোসেন, আছাদ উদ্দিনের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন ও ফয়সল ইব্রাহিম, আরব আলীর ছেলে ছমির উদ্দিন, আব্দুল খালিকের ছেলে শাহ আলম ও সাইদুল আলম, আব্দুল গনির ছেলে আবুল কালাম ও আবুল কাশেম, উত্তরপার গ্রামের জলই মিস্ত্রীর ছেলে ছাদই মিয়া, পূর্বপার গ্রামের বাহাদুর আলীর ছেলে দুদু মিয়া, শেখলাল গ্রামের বটু মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন, আখদ্দছ আলীর ছেলে বিলাল উদ্দিন, পশ্চিমপার গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে লুৎফুর রহমান, রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হেকিম, সাজ্জাদুর রহমানের ছেলে আবুল মেম্বার, মক্তদির আলীর ছেলে ফরহাদ আহমদ, আতাউর রহমানের ছেলে অলিউর রহমান, আব্দুস ছালামেএ ছেলে নাজিবুর রহমান এবং বেজগ্রামের ফরমান আলীর ছেলে মো. সুনাম উদ্দিন।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা খালগুলোর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, দোকান এবং অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মোস্তফা মুন্না। তিনি জানান, খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জলপ্রবাহে সমস্যা হচ্ছিল। তাছাড়া খালটি দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করতে স্থানীয়দের গৃহিত ক্লিন মাথিউরা প্রজেক্টের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ লিখিত আবেদন করলে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনাপূর্বক খালগুলো দখলমুক্ত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এদিকে, স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা প্রশাসন ও ক্লিন মাথিউরার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, খালগুলো দখলমুক্ত হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতাও কমবে।