
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশে রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজারের উদ্যোগে ‘ইয়ার এন্ডিং কার্নিভাল ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোটারি বর্ষ সফল সমাপ্তি, সেবামূলক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, সদস্যদের অবদান এবং মানবিক উদ্যোগ উদযাপন উপলক্ষে বিয়ানীবাজারের একটি অভিজাত পার্টি সেন্টারে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর পিডিজি ড. ইশতিয়াক জামান, পিএইচডি, ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর পিডিজি এম. আতাউর রহমান পীরসহ রিপশা টিম ক্লাব পরিদর্শন করেন। এ সময় টিমের সদস্যরা ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সদস্যদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে ক্লাব সভাপতি রোটারিয়ান হাসান আহমদ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রোটারিয়ান আনোয়ার হোসেন খান, জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন পিপি নজরুল ইসলাম এবং রোটারি ইনভোকেশন পাঠ করেন চার্টার মেম্বার রোটারিয়ান মো. জামিল হোসেন।
প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান পিপি ডা. আবু ইসহাক আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পিডিজি ড. ইশতিয়াক জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিডিজি এম. আতাউর রহমান পীর এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর (অ্যাডমিন) কামরুজ্জামান চৌধুরী রুম্মান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিডিজি ড. ইশতিয়াক জামান বলেন, “রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজার ধারাবাহিক সেবামূলক কর্মকাণ্ড, সদস্যদের আন্তরিকতা এবং সফল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু বিয়ানীবাজার নয়, সমগ্র ডিস্ট্রিক্টের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।”
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার মহিলা কলেজের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক।
অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করার পর ‘ইয়ার এন্ডিং কার্নিভাল ২০২৫-২৬’ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরে ক্লাবের সারা বছরের সেবামূলক কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক প্রতিবেদন ও অর্জন নিয়ে নির্মিত একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। এতে ক্লাবের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরা হলে উপস্থিত অতিথিরা প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল তিনটি মানবিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও হস্তান্তর। এর মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য দুটি পূর্ণাঙ্গ ঘর এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
এ সময় ক্লাবের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান, শীর্ষ দাতা, সর্বোচ্চ উপস্থিতি অর্জনকারী সদস্য, ‘রোটারিয়ান অব দ্য ইয়ার’ বিজয়ী এবং রোটারিয়ানদের সহধর্মিণীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান মো. আব্দুস শুকুর বাবলু, পিপি এমরান হোসেন দীপক, পিপি কামাল হোসেন, পিপি সালেহ আহমদ এবং ক্লাব সভাপতি রোটারিয়ান হাসান আহমদ ও সেক্রেটারি ডা. আব্দুস ছালাম মুক্তা।
সমাপনী বক্তব্যে ক্লাব সভাপতি রোটারিয়ান হাসান আহমদ জানান, রোটারি বর্ষ ২০২৫-২৬-এ ক্লাবটি মোট ১৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা ক্লাবের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, ঘোষিত বাজেটের প্রায় ১৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করে ক্লাবটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৬ টাকার সেবামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৩৬টি টিউবওয়েল বিতরণ, ২৪টি গৃহ নির্মাণ সহায়তা, ২টি পূর্ণাঙ্গ ঘর নির্মাণ, ২৮টি মসজিদ ও মাদ্রাসায় অনুদান, ১৫ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা, ৩টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা উপকরণ, শীতবস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ইফতার মাহফিল, ঈদ উপহার প্রদান এবং অভিভাবক ছাউনি নির্মাণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ক্লাবের মোট আয় ছিল ৬৩ লাখ ৮১ হাজার ৭২৮ টাকা এবং ব্যয় ৬৫ লাখ ৫২ হাজার ৫৯৬ টাকা। ফলে বছরের শেষে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৮ টাকার ঘাটতি থাকলেও সেবামূলক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতি রোটারিয়ান হাসান আহমদ অতিথি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রোটারি নেতৃবৃন্দ, সদস্য, দাতা, সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী ও প্রবাসী রোটারিয়ানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা ও সমর্থনের কারণেই ক্লাবটি এ বছরের উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
‘Unite For Good’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণমূলক কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ক্লাব নেতৃবৃন্দ। পরে র্যাফেল ড্র ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।